আর থাকছে না হাতে লেখা পাসপোর্ট

আর থাকছে না হাতে লেখা পাসপোর্ট

আর থাকছে না হাতে লেখা পাসপোর্ট

যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) ছাড়া আগামী ২৪ নভেম্বরের পর থেকে পৃথিবীর কোথাও যাতায়াত করা যাবে না। কিন্তু এখনো অন্তত ৫০ লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছাতে পারেনি সরকার।
এদিকে এমআরপি প্রকল্প চালুর পর ২০ লাখ প্রবাসী এমআরপি পেয়েছেন। এই সময়ে আরও ২০ লাখ প্রবাসী দেশেই এমআরপি পেয়েছেন। সরকারের হিসাবে প্রবাসীর সংখ্যা ৯০ লাখ। এই হিসাবে এখনো ৫০ লাখ প্রবাসী এমআরপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু এখন পাসপোর্ট দেওয়ার যে ধীরগতি, তা অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট সাড়ে তিন মাসে এত মানুষকে এমআরপি দেওয়া সম্ভব হবে না।
এমআরপি দেওয়ার কাজ পেয়েছে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান আইরিস করপোরেশন। সাবেক প্রবাসীকল্যাণ-মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্রসচিবসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানের কাজের ব্যাপারে বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিভিন্ন সরকারি নথি ও দূতাবাস থেকে পাঠানো কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমআরপি সমস্যা সমাধানে তাঁর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স এবং সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে উপদেষ্টা কমিটি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই কমিটি বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজে গতি আনেনি আইরিস।
সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী এবং বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমি বারবার তাগাদা দিয়েছি, চাপ দিয়েছি। কিন্তু আমি তো এখন নেই। আমি তো আর অনধিকার চর্চা করতে পারি না। তবে যা শুনছি, তাতে এমআরপি নিয়ে ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে।’
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আইরিসকে সৌদি আরবে প্রতিদিন নয় হাজার এবং আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় প্রতিদিন পাঁচ হাজার করে এমআরপি দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা এখনো সৌদি আরবে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৯০০, আরব আমিরাতে ১২৫ এবং মালয়েশিয়ায় মাত্র ৭০টি এমআরপি দিতে পারছে। সর্বশেষ গত ৯ এপ্রিল কাজে গতি আনতে তাদের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু কাজে গতি আসেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এন এম জিয়াউল আলম বলেন, সবাই তো আর একসঙ্গে ভ্রমণ করবেন না যে তাঁদের একসঙ্গে এমআরপি লাগবে। তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাসপোর্ট শ্রমিকদের হাতে থাকে না, এটা থাকে তাঁদের নিয়োগকারীদের কাছে। তিনি আশা করছেন, পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (আইসিএও) বাংলাদেশকে এমআরপি চালুর নির্দেশনা দিয়েছিল ১৬ বছর আগে। কিন্তু বাংলাদেশ যথাযথ উদ্যোগ নিতে না পারায় এখন সংকট তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমআরপি প্রকল্প চালু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছরে ৯২ লাখ ৯১ হাজার বাংলাদেশি এমআরপি পেয়েছেন। ৩০ জুলাই ৯০ লাখ প্রবাসীর মধ্যে মাত্র ১৯ লাখ ৭৩ হাজার এমআরপি পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালকের ভুল সিদ্ধান্ত এবং এমআরপি প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ঢিলেমির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ কাজটি দ্রুত করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ (আউটসোর্সিং) দিয়েছিল সরকার। তাতে এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো জটিলতা তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হয় সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রবাসী এমআরপি পাবেন না, এটা অনেকটা নিশ্চিত। এর ফলে বিদেশে হয়রানির শিকার হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

Next Story »

অপহরণের ঘটনার শতকরা ৮৪ ভাগই প্রেমঘটিত

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *